কমলগঞ্জে এক নামেই দুই ফার্মেসী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২০ | আপডেট: ৪:৪৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২০
কমলগঞ্জে এক নামেই দুই ফার্মেসী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি

সালাহউদ্দিন শুভঃ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বিভিন্ন অলি গলিতে গড়ে উঠেছে একই নামের লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি। আইনের কোন রকম তোয়াক্কা না করে এক ফার্মেসীর শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চলছে দুই ফার্মেসীর ব্যবসা।রেজিস্টার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপসন) ছাড়াই মাদকাসক্তরা চাওয়া মাত্রই অনেক ফার্মেসিতে বিক্রি করছে নেশা জাতীয় বিভিন্ন ওষুধ। এসব ফার্মেসির বেশীর ভাগেরই নেই কোন ফার্মাসিস্ট অভিজ্ঞতা সনদ। নেই ড্রাগ লাইসেন্স।

কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজারে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পরেশ মেডিক্যাল হল ও নিউ পরেশ মেডিক্যাল হল নামের দুটি ফার্মেসীই প্রশিক্ষন ও ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন গড়ে উঠছে। সেই সাথে ফার্মেসীগুলোতে নিম্নমানের নিষিদ্ধ ঔষধের ছড়াছড়িও রয়েছে ব্যাপক হারে। তাছাড়া ড্রাগ সুপারের কার্যালয় থেকে একটা নির্দেশনাও রয়েছে দুই ফার্মেসিতে। যার মধ্যে লেখা রয়েছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি না করার জন্য। কিন্তু এই নির্দেশনাও মানছে না কেউই। গ্রামের মানুষজনের  জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া এসব হলেই ফার্মেসী মালিকরা দিচ্ছেন এন্টিবায়োটিক ঔষধ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মালিক ও কর্মচারীরাই ডাক্তারী করছে। আর প্রতারিত হচ্ছে অসহায় সাধারণ মানুষজন। এতে হুমকিতে পড়েছে এই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য।

মুন্সীবাজারের হরিষরণ গ্রামের রশিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত দুই এক দিন আগে উনার মেয়ে তানজুমা রিমির ডায়রিয়া হলে তিনি পরেশ মেডিক্যাল হলের মালিক রিপন দেবনাথের কাছে গেলে উনি কোনো চিকিৎসা দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে তিনি তার মেয়েকে এন্টিবায়োটিক খাবার জন্য পরামর্শ দেন। খুব বেশি জোর করলে রাতেই উনার ফার্মেসির কর্মচারিকে দিয়ে ইনজেকশন দেন। কিন্তু উনার মেয়ের অবস্থা আরোও অশংখাজনক হলে তাকে নিয়ে মোলভীবাজার হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনি এসব ভূয়া ফার্মেসি যাতে বন্ধ করা হয় সেই জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কমলগঞ্জ উপজেলা যার মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাট-বাজারে বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েকশ লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি। যার অধিকাংশের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দেয়া গুটিকয়েক লাইসেন্সধারী ফার্মেসি রয়েছে, আর কিছু কিছু ফার্মেসির লাইসেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে হয়নি লাইসেন্স নবায়ন। উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়-ঔষধ প্রশাসনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শুধু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই ফার্মেসি দিয়ে বসে পড়েছেন ঔষধ বিক্রির জন্য। আর ড্রাগ সুপারের কার্যালয় থেকে একটা নির্দেশনাও রয়েছে প্রতিটা ফার্মেসিতে। যার মধ্যে লেখা রয়েছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টি বায়োটিক ঔষধ বিক্রি না করার জন্য। কিন্তু এই নির্দেশনাও মানছে না কেউ। এছাড়া ফার্মেসি পরিচালনার জন্য যে ন্যুনতম যোগ্যতা প্রয়োজন তাও আবার অধিকাংশ ফার্মেসি মালিকদের নেই।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ফার্মেসির অধিকাংশই ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের বাইরে ঔষধ সরবরাহ করে থাকেন এবং রোগীদের বলে থাকেন একই গ্রুপের ঔষুধ ডাক্তার যেটা লিখেছেন তার চেয়েও ভালো। ফলে রোগীরা সরল বিশ্বাসে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ফার্মেসিতে কোন এমবিবিএস ডাক্তার বসে না। বেশিরভাগ ফার্মেসির মালিকরাও ভুয়া ডাক্তার সেজে বসে আছেন। উপজেলার গরীব নিরীহ মানুষ ছোট-খাট অসুখে অনেক সময় সুচিকিৎসা লাভের আশায় কখনো ভিজিটের ভয়ে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসিতে গিয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ওষুধ চান। আর ওইসব নামধারী ডাক্তারদের দেয়া উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগের ফলে বিপরীত ফল হয় প্রতিনিয়তই।


পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031