কমলগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সংবাদ সম্মেলন

নুন্যতম মুজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবিতে

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:১১:অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১
কমলগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সংবাদ সম্মেলন

চা-বাগান শিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত সংগঠনের মনু-দলই ভ্যালি (কয়েকটি চা-বাগান নিয়ে একটি ভ্যালি গঠিত) কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিক নেতারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মনু-দলই ভ্যালি কমিটির সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা লিখিত বক্তব্যে বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি তিন বছর পর পর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। অথচ, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর পর উভয় পক্ষের চুক্তি হয়ে থাকে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা-সংসদের (বিটিএ) সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই চুক্তির মেয়াদ ছিল। ওই চুক্তিতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। এখনো নতুন করে কোনো চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি অনুযায়ী, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এতে চা-শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মালিকপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। শ্রমিকেরা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। মজুরি বোর্ডের সুপারিশের কারণে তাঁরা চরম হতাশায় পড়েছেন।

বক্তব্যে বলা হয়, চা শ্রমিকরা জন্ম থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। অথচ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যে নিম্নতম মজুরি হারের খড়সা প্রকাশ করা হয়েছে তা দূঃখজনক। মজুরি বোর্ডের সুপারিশে প্রথম তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে শ্রমিকদের নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে একজন শ্রমিক ১১০ টাকা করে দৈনিক মজুরি পাবেন। চা-শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় একই পেশায় নিযুক্ত হন।

এ অবস্থায় তাঁদের শিক্ষানবিশ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক। চা-বাগানের সব শ্রমিক সমান কাজে সমান মজুরি পাবেন। কিন্তু, মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের এ, বি ও সি গ্রেডে বিভক্ত করে তাঁদের জন্য ভিন্ন মজুরি প্রদানের সুপারিশ করেছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য দেখা দিবে। এটা অমানবিকও। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মনু-দলই ভ্যালি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, কোষাধ্যক্ষ রাজিব কৈরী, চা-শ্রমিক নেতা সিতারাম বীন, চা-ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রদীপ পাল, মির্তৃঙ্গা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিন্টু অলমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Print

পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31