টিকটক ও লাইকি নামক নতুন এক নেশার কবলে পড়েছে যুবসমাজ

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১ | আপডেট: ৭:১৫:অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১
টিকটক ও লাইকি নামক নতুন এক নেশার কবলে পড়েছে যুবসমাজ

আশিকুর রহমান সবুজঃ
মদ, গাঁজা, কিংবা হিরোইনের মত নেশাদ্রব্য না হলেও টিকটক ও লাইকিতে আছে নেশাদ্রব্যের মতোই আসক্ত করার ক্ষমতা। দিনে-দিনে নেশাদ্রব্য যেভাবে মানুষকে অথর্ব আর বোধহীন ক’রে তোলে, নীরবে-নিভৃতে টিকটকও এখন তাই করছে। আমাদের যুব সমাজের বিরাট একটা অংশ এখন আসক্ত হয়ে পড়েছে এই টিকটক বা লাইকিতে।।

বর্তমানে পৃথিবীতে নিত্যনতুন অনেক টেকনোলজির আবির্ভাব হয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু এসব টেকনোলজির অপব্যবহার একটা সভ্যতাকে কতোটা বিপর্যস্ত করতে পারে, টিকটক ও লাইক তা ভালো করে দেখিয়ে দিয়েছে।

ছেলে-মেয়েরা ক্রিয়েটভ কিছু করছে না, তারা লাইকি বা টিকটক ভিডিও বানাচ্ছে। জ্ঞান চর্চায় নিবেদিত না হয়ে ভিত্তিহীন বিষয় নিয়ে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। দিনে-দিনে তারা মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। সবার চোখের সামনে তারা হারিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরা এবং অন্য কেউ তা দেখতে পাচ্ছে না।

বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের অংশ, সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ, এমনকি সম্মানিত আলেম-ওলামাদের ওয়াজ নিয়ে লাইকি বা টিকটক করা হচ্ছ। এসবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করা হচ্ছে সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে। লাইকি বা টিকটক দিয়ে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি কিংবা অ্যাপস তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হলেও একটা জেনারেশন দিন-দিন হারিয়ে যাচ্ছে অজ্ঞতার অতল গহবরে।

লাইকি বা টিকটকে যেসব গান ব্যবহার করা হয়, শিল্পী, সুরকার কিংবা গীতিকারের কাছ থেকে সেসব গান ব্যবহারের কোন পারমিশন নেয়া হয় না। গানসংশ্লিষ্ট কারও নামও ব্যবহার হয় না। ফলে গানটির মূল কারিগর যারা, তারা বিন্দু পরিমাণও লাভবান হচ্ছে না। অখ্যাত ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন গানে বা সংলাপে পারফর্ম ক’রে গানের মূল বিষয়ের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। যেসব সিনেমার ডায়লগ দিয়ে লাইকি বা টিকটক করা হয়, সেসব সিনেমায় অনেক গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ করেছেন। তাদের পারমিশন না নিয়ে তাদের সংলাপ এভাবে প্রকাশ করা কতোটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে এখন।

যেসব আলেম-ওলামা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ ক’রে থাকেন, সেসব আলেম-ওলামার মুখের কথাকে বিকৃত ক’রে কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা যেভাবে লাইকি বা টিকটক করছে, এতে তাঁদের ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। সৃষ্টিশীল মানুষের সৃষ্টিকে বিনা অনুমতিতে এভাবে প্রচার ক’রে একটা পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতি হচ্ছে এসবের মূল কারিগরদের। কারো কোন সৃষ্টিকেই এভাবে যত্রতত্র ব্যবহার করা উচিত নয়।

অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা যেভাবে টিকটকে আসক্ত হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় ওরা একেবারে মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। আগামীর পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হ’লে তাদের যে মেধাভিত্তিক চর্চাটা দরকার, নিজের অজান্তেই ওটা থেকে তারা ছিটকে পড়বে। জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হ’তে যে বুদ্ধিবৃত্তিক মন ও মস্তক দরকার, ওটা তৈরি করতে না পারলে আমাদের যুবসমাজের স্বপ্নগুলো একসময় গম্ভীর হয়ে পড়বে। তখন তারা আর পথ খুঁজে পাবে না। তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

তখন তারা দেশের সম্পদ না হয়ে দেশের বোঝায় পরিণত হবে। এই ক্ষতি আমার, আপনার, আমাদের সকলের। লাইকি বা টিকটক সাধারণত কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা ব্যবহার করে।

এ ব্যাপারে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান বলেন,এক্ষেত্রে অভিভাবকরা একটা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারেন। যেসব অভিভাবক তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে মোবাইল কিনে দিয়েছেন, তাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ছেলেমেয়েরা মোবাইলটি ব্যবহার করছে কীভাবে।তিনি আরো বলেন,তারা মোবাইলের কোন্ অ্যাপস বেশি ব্যবহার করছে, তারা কী ধরণের বিষয় নিয়ে প’ড়ে আছে, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটছে কী না, জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করছে কী না, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের সন্তান আমাদের ভবিষ্যৎ। যে কোনো মূল্যেই হোক, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে আমাদেরকেই।
গাজীপুরের হাজ্বী আবদুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন,
আসলে ঠিক ফেমাস না একটা হাস্যকর বস্তু হচ্ছে মাত্র। এরকম কজনের নমুনা থেকে তাদের আবার ফলোয়ার হচ্ছে। তাদের দেখাদেখি তাদের ফলোয়াররা এসব ভিডিও বানাতে লিপ্ত হচ্ছে৷ তারাও তাদের ফলোয়ারদের মতো ফেমাস হতে চায়। তারাও ইউনিক কিংবা এলিয়েন টাইপ আইডিয়া দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ফেমাস হতে চায়। ঠিক এভাবেই একজন সাধারণ ছেলে/মেয়ে সামান্য পরিচিত কিংবা তথাকথিত ফেমাস হওয়ার জন্য এসব অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে।

এসব ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ভার্চুয়াল জগতের ক্ষতিকর দিক থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখে, পরবর্তী জেনারেশন কীভাবে আলোর পথে যেতে পারে, তার একটা রোডম্যাপ তৈরি ক’রে দিতে হবে। শিক্ষামূলক বিভিন্ন অ্যাপস এর ব্যবহার বাড়িয়ে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজকের তরুন প্রজন্মের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ।


পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031