মেয়ের বিয়ের দুই বছর পর অপহরণ মামলা দিলো বাবা

মানিক মিয়া মানিক মিয়া

সদর প্রতিনিধি, গাজীপুর

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৯:০৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০
মেয়ের বিয়ের দুই বছর পর অপহরণ মামলা দিলো বাবা

মানিক মিয়া,সদর প্রতিনিধি:

ভালোবাসার টানে সিমা খাতুন ও শাকিল ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রায় দুই বছর আগে। প্রথমে মেনে নিলেও দেড় বছর পর এখন এই বিয়ে মেনে নিতে পারছেনা সিমা আক্তারের বাবা আফজাল।

মেয়ে নাবালিকা এই অভিযোগ এনে জয়দেবপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন। অথচ সিমা গত ৬/০৩/২০১৯ তারিখে কারখানায় চাকুরীরত হতে বের হয়ে আর বাড়ি আসে নাই। এঘটনায় নিখোঁজ সিমার বাবা থানায় কোন সাধারণ ডায়েরিও করেনি।

বিয়ে হয়ে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর গত ২৩/১১/২০২০ তারিখে জয়দেবপুর থানায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে একটি রহস্যজনক অপহরণ  মামলা দায়ের করেন।

 

আসামীরা হলেন, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার ডগরী এলাকার তালেব এর সন্তান শাকিল (২০) এবং তার মা আকলিমা (৫১)

 

মামলার বাদী মেয়ের বাবা আফজাল আলী (৪৬)পাবনা জেলার চাটমোহর থানার মাঝগ্রাম এলাকার মৃত আবেক প্রামানিক এর সন্তান।

সে পরিবার নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন বিকে বাড়ি এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় কারখানায় চাকরি করে।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, আফজাল আলীর মেয়ে সিমা খাতুন(১৫) জয়দেবপুর থানাধীন এমসি জ্যাকার্ড কারখানায় সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি  করেন। গত,৬/০৩/২০১৯ আনুমানিক রাত আটটায় অফিস ছুটি হওয়ার পর আর বাসায় ফিরে আসেনি কর্মস্থলে এলাকায় আত্মীয়স্বজনের কাছে  খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত,৩/১১/২০১৯ লোক মারফতে জানতে পেরে  বিবাদীর বাড়ি গিয়ে মেয়ে কোথায় জানতে চাইলে মেয়ে নেই বলে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয় আফজাল কে পরে উভয় পক্ষ স্হানীয় গণ্যমান্য লোকজনদের মধ্যস্থতায় আপোষ মিমাংসা হয় এবং উভয়ের মাঝে পারিবারিক ভাবে দাম্পত্য বন্ধনের রূপ নেয়।

 

বিগত,৭/১১/২০২০ তারিখে হঠাৎ বিবাদী এসে বলে বাদীর মেয়ে গর্ভবতী ডেলিভারি জন্য হাসপাতালে ভর্তি আছে। তখন আমার পরিবার নিয়ে মেয়েকে নিতে আসলে বিবাদীরা মেয়েকে দিতে অস্বীকার করে এবং মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়। নাবালিকা মেয়ের গর্ভে সন্তান আসায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায়।

 

বাদীর মেয়ে সীমা খাতুন জানান,আমি একটি কারখানায় চাকরি করতাম তখন শাকিলকে ভালোবেসে বিয়ে করি প্রথমে আমার বাবা রাজি না হলেও কিছুদিন পরে রাজি হয়।

আমার বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পরে আমার বাবা আমার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসে অনেকবারই দাওয়াত পর্যন্ত খেয়েছেন । এর কিছুদিন পরে আমি ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার বাচ্চা প্রসব কালে চিকিৎসক আমার অভিভাবক হিসাবে চিকিৎসার জন্য  বাবাকে  সাইন করতে  বললে  বাবা রাজি না হওয়ায়  ডেলিভারী বিলম্বের কারণে বাচ্চা সিজারে হলেও তাৎক্ষণিক মারা যায়।

 

শুধু তাই নয় আমার পিতা আমি নাবালিকা মর্মে আমার স্বামীকে এক লক্ষ টাকার জন্য নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে  আসছিলো আমার স্বামী নিরুপায় হয়ে ২০ হাজার টাকা সমিতি থেকে ঋন করে আমার বাবাকে দিয়েছে । বাকি টাকা দিতে পারিনি বলে আমার স্বামী ও শাশুড়ি আকলিমা(৫৫) এর নামে মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছে। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই সেটা আমার বাবা দিচ্ছে না আমি এটার একটা প্রতিকার চাই।

আমাকে কোন ধরনের অপহরণ করা হয়নি এটা আমার বাবার টাকা আদায়ের কৌশল মাত্র।

 

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (চলতি দায়িত্ব) মাহফুজ রহমান জানান, মেয়ের বিষয়টি আমরা পূর্ব থেকে অবগত আছি।

এ বিষয়ে  বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

 

এ বিষয়ে মামলার  বাদী আফজাল আলীর কাছে, কেন হারিয়ে যাওয়ার এতোদিন পর থানায় মামলা বা ডায়রী  করেননি জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি এবং ১৮ বছরের নিচে কিভাবে কারখানায় চাকরি করার জন্য দেওয়া হল। কেন ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন । জানতে চাইলে যা বলার তিনি কোর্টে বলবে বলে ফোন কেটে দেয়।

Print Friendly, PDF & Email

পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031