রায়পুরে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের ৪ কর্মকর্তা ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

মো: আবদুল কাদের মো: আবদুল কাদের

লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৯
রায়পুরে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের  ৪ কর্মকর্তা ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

মো: আবদুল কাদের, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের উপজেলা পরিচালক রাশেদ ভূঁইয়া ও সুপারভাইজার কামরুল ইসলাম ও মাসুদসহ চার কর্মকর্তাকে শিক্ষকদের মাসিক বেতনের টাকা আত্মসাত ও ভুয়া নিয়োগের অভিযোগে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রকল্পের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার সাকল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পৌর শহরের ফিশ হ্যাচারি সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী সড়কে অবস্থিত প্রকল্প কার্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরজমিনে এসে তদন্তে পুরো টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা মুক্তি পান।

প্রকল্প অফিস সূত্রে ও ভুক্তভোগীরা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে উপজেলায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ৩শ কেন্দ্রে একজন পুরুষ শিক্ষক ও এক মহিলা শিক্ষিকা বয়স্কদের স্বাক্ষরতা দানের জন্য ছয়শ’ শিক্ষক ও ১৫ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়। মেয়াদকাল প্রশিক্ষণ শুরু থেকে ছয় মাস।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাউস এ প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। ওই শিক্ষকরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৪শ টাকা বেতন ও সুপারভাইজার ২ হাজার ৫শ’ টাকা বেতন পাবেন। পর্যায়ক্রমে ৬শ জন শিক্ষকের ছয় মাসের কার্যক্রম শেষ হয়।

সোমবার বিকালে শিক্ষকদের বকেয়া ৪ মাসের বেতন দেওয়া শুরু করে। এসময় গ্রাউস কর্মকর্তা চার মাসের বেতন রেজিস্টারে স্বাক্ষর রেখে ২ মাসের বেতন প্রদান ও কিছু নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষদের ভাতা অন্যদের স্বাক্ষর নিয়ে তুলে নেওয়া এবং ভুয়া কিছু নিয়োগ দেখিয়ে প্রকল্পের শিক্ষকদের বেতন আত্মসাত শুরু করে গ্রাউস কর্তৃপক্ষ।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা মৌলিক স্বাক্ষরতা উপজেলা প্রকল্প কার্যালয়ে পরিচালক রাশেদ ভূঁইয়া ও সুপারভাইজার কামরুল ইসলাম ও মাসুদসহ চার জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমানিত হওয়ায় বেতন কার্যক্রম বন্ধ করে অফিস থেকে সকল নিয়োগ পত্র নিয়ে উপজেলা কার্যালয় নিয়ে বেতন প্রদানসহ সকল অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে দেন।

রায়পুর মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের উপজেলা পরিচালক রাশেদ ভূঁইয়া বেতন দিতে অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, সুপারভাইজারা এসব অনিয়ম করেছে। তাদের কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি এখন উপজেলা নির্বাহী কর্তমর্তা নিজেই সমাধান দিচ্ছেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী রায় বলেন, অনিয়ম বন্ধ করতে এখন আমার কার্যালয় থেকে নিয়োগ পত্র দেখে সকল শিক্ষকদের পুরো বেতন প্রদান করা হবে। এছাড়াও গ্রাউস কর্মকর্তাদের সকল অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031