গাজীপুরে শালদহ নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৭:৪৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২১
গাজীপুরে শালদহ নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

এস এম জহিরুল ইসলাম, গাজীপুর:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের শিরিশগুড়ি গ্রামের চিলমারি এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায় লিখা ঐতিহ্যবাহী শালদহ্ নদী, আর এ নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের শিরিশগুড়ি গ্রামের ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার কয়েক লাখ শ্রেণী পেশার মানুষ।

দুই উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে শালদহ্ নদী।দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাদের মৌলিক চাহিদা মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে, কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, ফসলি জমির সার ওষুধ পরিবহনে অসুবিধা, জমির ফসল ক্রয়-বিক্রয়ে অসুবিধা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠ গ্রহণে অসুবিধা, এ ছাড়া অসুস্থ লোকজন দ্রুত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

যুগ যুগ ধরে কোনো প্রয়োজনে নদীর পশ্চিম পাশে আসতে হলে তাদের নদীতে ভিজে পার হয়ে আসতে হয়। নদীতে কোনো বাঁশের সাঁকো বা নৌকা না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে তাদেরকে হাঁটুপানি পার হয়ে আসতে হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে তাদের ভিজিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে শিরিশ গুড়ি গ্রামে শিক্ষার্থীদের নদীর পশ্চিম পাশে স্কুল ও কলেজগুলোতে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আবার নদীর পশ্চিমে অর্ধেক অংশে রয়েছে ফুলবাড়িয়ার গ্রাম। ওই গ্রামের মানুষের অধিকাংশই ফসলি জমি রয়েছে নদীর পূর্ব পাশে। নদীতে সেতু না থাকায় ওই ফসলি জমিগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করতে পারে না, তারা আদিযুগের লাঙলে চাষ করে জমিতে ফসল ফলাতে হচ্ছে। আবার উৎপাদিত ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতেও হিমশিম খেতে হয়। এ ছাড়া নদীর পূর্ব তীরে কোনো বাজার বা হাট না থাকায় তাঁরা পশ্চিম তীরে ফুলবাড়িয়া হাটবাজারের ওপর নির্ভরশীল। নদীর পূর্বপাশে বাজার না থাকায় নদীর পূর্ব পারের শিরিশ গুড়ি চিলমারি গ্রামের লোকজন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার,ওষুধপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না পেরে পূর্ব তীরের মানুষ খুব কষ্টে দিনযাপন করছে।

গত কয়েক বছরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে স্রোতে সাঁকো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নদী পারাপার হয়ে শিমলা পাড়া গ্রামের মানুষ ও শিরিশ গুড়ি গ্রামের মানুষসহ প্রাই ১০ গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিনের এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে গ্রামবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।

সোমবার (১৬ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর ঘাটের পূর্ব পাশে শিরিশ:গুড়ি গ্রামের চিলমারি এলাকার বিল্লাল হোসেন বলেন, এর আগে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছায় তৈরি বাঁশের সাঁকো থাকলেও গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঁকোটি স্রোতে ভেসে গেছে। তাই তিনি নদী পারাপার হতে পারছেন না।

রাহেলা বেগম নামের এক মধ্যবয়সী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এসেছেন ৪ কিলোমিটার দূরের শিমলাপাড়া গ্রাম থেকে। নদীর পশ্চিম পাশের গ্রামে তাঁর বাবার বাড়ি। নদীতে সেতু না থাকায় বাবার বাড়ির খুব কাছ থেকে ফেরত যেতে হলো রাহেলা বেগমকে। ফিরে যাওয়ার সময় খুব হতাশা নিয়ে বলে গেলেন, নদী পার হলেই বাবার বাড়ি, অথচ এত কাছে এসেও বাবার বাড়িতে যেতে পারলাম না। দিনভর এমন অসংখ্য পথচারী হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের দাবি ছিল একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে আর কষ্ট করে ফিরে যেতে হবে না।

ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান রাহাত ও রাজু বলেন,নদীতে সেতু না থাকায় সময়মতো স্কুলে আসতে পারি না। সারা বছরই নদী পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্বল্প পানি পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি হলে স্কুলে যাওয়া অসুবিধা হয়ে যায়। নদী পার হয়ে স্কুলে আসা বা যাওয়ার সময় হাত থেকে বইখাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, নদীর পানিতে ভিজে স্কুলে যাতায়াত করা অনেক অসুবিধা। নদীতে সেতু না থাকায় সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে না। বর্ষার সময় নদী ভরে যাওয়ায় স্কুলের পাঠ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

চিলমারি গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, শিরিশ গুড়ি গ্রামে শালদহ্ নদীতে সেতু না থাকায় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিনিয়ত নদীতে ভিজে পার হয়ে কাজ করতে হয়। সেতু না থাকায় দুপারের মানুষের কষ্টের শেষ নেই। তারা উৎপাদিত ফসল সময়মতো ঘরে তুলতে পারে না আবার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত।

মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য রোসমত আলী জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় মাওনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট শামসুল আলম প্রধান জানান, শিরিশগুড়ি ও দেওচালা গ্রামে শালদহ্ নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছেন। আশা করছি শিগগিরই সেতু নির্মাণের অনুমোদন পাব।

Print

পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930