পাবজি সহ  অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়ে শিক্ষার্থী সহ যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে

আশিকুর আশিকুর

রহমান সবুজ

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০
পাবজি সহ  অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়ে শিক্ষার্থী সহ যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে

আশিকুর রহমান সবুজ,স্টাফ রিপোর্টারঃকরোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশ ব্যাপী স্কুল কলেজ বন্দ থাকায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ উঠতি বয়সের যুব সমাজ দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ছে।

এ অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি এতটাই বেড়েছে অনলাইনে লেখাপড়া বাদ দিয়ে মোবাইল গেমের বুঁধ হয়ে পড়েছে। এ কারনে শিক্ষার্থীরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অবিভাবকরা সচেতন না হলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

পাবজি গেমটি কেবল হিংস্রই করে তোলে না, সেই সাথে শারীরিক সক্ষমতার উপরেই ফেলতে পারে বাজে প্রভাব। গেমটি যেহেতু কম্পিউটার এবং মোবাইল ভিত্তিক তাই এটি কোনো স্থানে বসেই খেলতে হবে। আর একটি স্থানে বেশি সময় ধরে বসে থাকলে তা শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় এই পাবজি গেমটি। সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে এই গেমটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ। ভিডিও গেমগুলো একজন খেলোয়াড়ের ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শারীরিক মানসিক রোগের সাথে সাথে পাবজি গেমটি একজন শিশু কিংবা কিশোরের উপর সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গেমটি যেহেতু একটি জায়গাতেই আটকে থেকে খেলতে হয় সেহেতু এই গেম খেলা মানুষটি সামাজিকভাবে খুব বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে না। আর এই কারণে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সমাজের আচার ব্যবহার থেকেও ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে হয় সেই মানুষটিকে। সর্বোপরি একটা সময় একাকীত্ব বরণ করতে হয় তাদেরকে।
অতিরিক্ত হিংস্রতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতোমধ্যে পাবজি গেমটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে। যদিও পুরো দেশ জুড়ে এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয়নি। পুরো দেশের মধ্যে প্রথমে কেবল দু’টি স্থানে এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয় কিন্তু পরবর্তিতে আরও বেশ কয়েকটি স্থানে নিষিদ্ধ করা হয়ে এই গেমটি। ভারতের তামিল নাড়ুর দ্য ভ্যালোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’তে এই গেমটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে এই গেমটি নিষিদ্ধ করা হয়। গুজরাট হাই কোর্ট নির্দেশ দেয় জনসম্মুখে কোনো ব্যক্তিকে পাবজি গেম খেলতে দেখা গেলে তাকে আটকে জেলে দেওয়া হবে। এছাড়াও আহমেদাবাদ, রাজকোটেও এই গেমটি নিষিদ্ধ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে ,খোলা জায়গা, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে বসে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ উঠতি বয়সের যুবকরা তিন থেকে চারজন মিলে অনলাইন গেম পাবজি,ফ্রি ফায়ারসহ বিভিন্ন ধরনের গেম খেলা করে থাকে। ফলে দিন দিন গেমের প্রতি আসত্ত হয়ে পড়ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পাবজি! প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইলন গেম। বর্তমানে উপমহাদেশে কয়েকগুণ বেড়েছে এই গেমের জনপ্রিয়তা।
মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার দুটোতেই খেলা যায় এই গেম। তবে উপমহাদেশে পাবজির কম্পিউটার ভার্সনের থেকে মোবাইল ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অবিভাবকরা মনে করেন অনলাইন গেম বন্দ করা না গেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে। সূত্রমতে, চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম মহামারী কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়। এরপর সংক্রমন প্রতিরোধে সরকার লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পাশাপাশি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে নিলেও বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যথারীতি শিক্ষার্থীরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলার হাজ্বী আব্দুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃনাছির উদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি থাকলেও অনলাইনে ক্লাস চলছে । অনলাইনে ভর্তি ও ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কিন্ত শিষক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে মনোযোগী না হয়ে মোবইল গেমে তাদের আসক্তি বাড়ছে।শিক্ষার্থীদের মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে ফেরাতে অবিভাবক,শিক্ষক ও সচেতন মহলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান।


পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031