কমলগঞ্জে গৃহবধু ধর্ষণ মামলা, পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার চান গৃহবধু ইমা

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:১৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০
কমলগঞ্জে গৃহবধু ধর্ষণ মামলা, পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার চান গৃহবধু ইমা

সিলেট প্রতিনিধি::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শমসেরনগর ইউপির গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহবধু (২১) ধর্ষনের শিকার হয়েও বিবাদীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তে ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন। আদালতের নির্দেশে প্রথম দফায় মামলাটি পিবিআই’র তদন্তে ন্যায় বিচার না পাওয়ায় নারাজি দেন বাদী। বর্তমানে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে তদন্ত আসলেও সেখানেও তদন্ত কর্মকর্তাকে নানাভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন গৃহবধুর স্বামী। নির্যাতিত গৃহবধু পুলিশের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আসামীর বিচার দাবী করেছেন।

গৃহবধুর স্বামী জানান, গোবিন্দপুর গ্রামের কবিরাজ আব্দুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী ইমা আক্তারকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় একই গ্রামের আব্দুল হক (৪২) তার স্ত্রীকে একা পেয়ে অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। স্ত্রীর আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তী ঘরের মানুষজন ছুটে আসলে আব্দুল হক পালিয়ে যায়। ব্যবসায়ীক কারনে শ্রীমঙ্গল থাকায় এলাকাবাসীর টেলিফোন পেয়ে দ্রুত তিনি বাড়িতে এসে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে এলাকাবাসীকে জানিয়ে কমলগঞ্জ হাসপাতালে নেবার পর কতর্ব্যরত ডাক্তাররা মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়ার পর্রামশ দিলে সেখানে ভর্তি করান স্ত্রীকে। ঘটনার বিচার চেয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বিচার চেয়ে একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৬৭/২০১৯)। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই ৮ অক্টোবর ২০১৯ মামলাটি তদন্ত করে। আসামী আব্দুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কিছু যুবকদের দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী প্রদান করেছে বলে গৃহবধুর স্বামী দাবী করেন।

আলাপকালে নির্যাতিত গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত আব্দুল হক প্রভাব খাটিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছেন। আমার স্বাক্ষীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে টাকা দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী সাজিয়ে প্রকৃত ঘটনাটি আড়ালে করছে। তিনি বলেন, আসামীপক্ষ থানা পুলিশকে মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই কমলগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবী করেন।

মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি সর্ম্পন্ন মিথ্যা। এ ধরনের ঘটনার সাথে আমি কখন জড়িত নয়। পিবিআই তদন্ত করে কিছু পায়নি। মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের প্রশ্নই উঠে না।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই অনিক বড়ুয়া বলেন, মামলাটি ২০১৯ সালের। তদন্ত করেছি। তবে পিবিআই তদন্ত রিপোর্টের বাহিরে যাওয়া যাবেনা। বিবাদী পক্ষ পুলিশকে ম্যানেজ করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।


পুরাতন খবর দেখুন..

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30